কিশোর অপরাধ
- কেন?
- অভিভাবক= বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ বাবা মা তাদের ছেলে মেয়ের প্রতি বেশ উদাসহীন। ছেলে মেয়ে কোথায় যায় কার সাথে মেশে কি করে এই সকল বিষয় অভিভাবকেরা যথেষ্ট খোঁজ খবর রাখে না। ফলে কিশোররা ধিরে ধিরে অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে।
- বয়স= কিশোর অপরাধে বয়স একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। এই বয়সের ছেলে মেয়েরা নিষিদ্ধ বিষয় বা অপরাধ মূলক কর্মের প্রতি বেশি মাত্রাই আকৃষ্ট থাকে।
- মানসিকতা= কিশোর বয়সে ছেলে মেয়েরা যা ভাবে বা যা করে তাই তাদের কাছে সঠিক বলে মনে হয়। তাদের কে যতই বুঝানো হোক না কেন তারা যা বুঝে তাই করে থাকে।
- অজ্ঞতা= কিশোররা যা করছে তা অপরাধ কিনা সেই বিষয়ে তাদের কোন ধারনা থাকে না। এমনকি অপরাধের পর যে শাস্তির বিধান আছে সেই বিষয়েও তারা যথেষ্ট জ্ঞান রাখে না
- পরিবেশ= ছেলে মেয়েরা যে পরিবেশে বড় হচ্ছে তার উপর কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি বা হ্রাস নির্ভর করে। পরিবেশ দুই ধরনের। ১. পারিবারিক পরিবেশ ২. বাহ্যিক পরিবেশ।
- নৈত্যিক অবক্ষয় ও প্রশ্রয়= আমাদের নৈত্যিক অবক্ষয়ের কারণে দিন দিন কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিশোররা আমাদের সামনেই আপরাধ করলেও আমরা সে গুলো প্রায় সময় উপেক্ষা করি। ছোট ছোট অপরাধ গুলো প্রশ্রয় দিয়ে তাদেরকে বড় ধরনের অপরাধ করতে উতসাহী করি।
- মাদক= দিন দিন কিশোররা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে কিশোর অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- মেয়ে= কোন মেয়ের প্রতি একাধিক কিশোর আকৃষ্ট হলে তাদের ভিতর দন্দের সৃষ্টি হয়। ফলে তারা অপরাধ মূলক কাজে লিপ্ত হয়।
- রাজনৈতিক প্রভাব= কিশোর অপরাধের সাথে রাজনৈতিক প্রভাব ওতোপ্রতো ভাবে জড়িত। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছত্রছায়ায় থেকে কিশোররা অপরাধ মূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে। মূলত অপরাধ করার সাহস কিশোররা এখান থেকেই পেয়ে থাকে।
- মোবাইল ফোন ও ভার্চুয়াল জগত= মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি কিশোরদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মোবাইল ফোনের অদ্ভুত সব গেম খেলতে খেলতে কিশোররা একটা ভার্চুয়াল জগত তৈরি করে। যেখান থেকে তারা অপরাধ মূলক কাজে প্রভাবিত হয়।
- টার্গেট
- যে সকল কিশোর স্কুল/কলেজে নিয়মিত নয়।
- যে সকল কিশোরের রেজাল্ট তার পূর্ব অবস্থা থেকে খারাপ হচ্ছে।
- যে সকল কিশোর শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণ করে।
- যে সকল কিশোর মেয়েদের টিজ করে।
- যে সকল কিশোর মাদকাসক্ত।
- যে সকল কিশোরের চলাফেরা আচার আচারণ স্বাভাবিক নয়।
- যে সকল কিশোর তার বয়স অপেক্ষা বেশি বয়সের ছেলে/লোকেদের সাথে মেলামেশা করে।
- যে সকল কিশোর অধিক রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে থাকে।
- যে সকল কিশোর আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে বড় হচ্ছে।
- যে সকল কিশোর প্রয়োজনের তুলনায় অধিক সুবিধার মধ্য দিয়ে বড় হচ্ছে।
কিশোর বয়সে ছেলে মেয়েরা নিজের সিদ্ধান্তকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। ফলে অভিভাবক, শিক্ষক বা অন্য কেউ তাদেরকে যতই বুঝায় না কেন কোন লাভ হয় না। কোন কিশোর যদি কোন কাজ বা বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয় তবে তাকে উক্ত কাজ থেকে বিরত রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে। কিশোরদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তি দেখালে বা ভালো পরামর্শ দিলে তারা বিরক্তবোধ করে। সত্য কথা বলতে বর্তমান সময়ে কিশোররা ভালো কথা শোনার মানসিকতায় নেই বললেই চলে। তারা হয়তো কথা গুলো শোনে কিন্তু মানে না। এমন অবস্থায় কিশোর অপরাধ কমাতে বা কিশোরদের বিপথগামী হওয়া ঠেকাতে ১।অভিভাবক ও জনগনের মদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে ২। কিশোরদের মনে অপরাধের শাস্তির ভয় সৃষ্টি করতে হবে। অধিকাংশ কিশোর অপরাধ করে আবেগের বশে। কিশোর বয়সের ছেলে মেয়েদের অপরাধ বা অপরাধের শাস্তির বিষয়ে কোন জ্ঞানই থাকে না। ফলে তারা অপরাধ করতে কোন রকম দ্বিধাগ্রস্থ হয় না।
মানুষের ভিতর সাহস থাকুক বা নাই থাকুক ভয় সব সময় থাকে। কারণ ভয় মানুষের জন্মগত প্রবৃত্তি। আর এই ভয়কে কাজে লাগিয়েই অপরাধ কমানো সম্ভব। তবে মানুষের মনের ভয় যদি কেটে যায় তাহলে বিপরীতটা হতে পারে।
- যা করা যেতে পারে
- স্কুল/কলেজের শিক্ষদের কাছ থেকে সেই সকল ছাত্রদের তালিকা নিতে হবে যারাঃ-১। স্কুল/কলেজে নিয়মিত নয় ২। অসাভাবিক ভাবে রেজাল্ট খারাপ করে ৩। শিক্ষদের সাথে খারাপ আচারণ করে ৪। চলাফেরা অস্বাভাবিক করে
- এলাকার চেয়ারম্যান/মেম্বারদের কাছ থেকে সেই সকল কিশোরদের তালিকা নিতে হবে যারাঃ- ১। অধিকাংশ সময় এক সাথে থাকে ২। যাদের আচারণ আক্রমনাত্বক ৩। যারা বড়দের সম্মান দেয় না ৪। যাদের চলাফেরা অস্বাভাবিক লোকেদের সাথে ৫। যারা মাদকাসক্ত ৬। যারা অধিক রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে অবস্থান করে